দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে বিশাল পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানে সম্ভাব্য রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থীর আগমন সামলাতেই এই বিস্তৃত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মেলাপ্রাঙ্গণে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার মেলাক্ষেত্রের আয়তন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে।
পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ও মেলাপ্রাঙ্গণের নতুন রূপরেখা
রাজ্য সরকার ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে গঙ্গাসাগর মেলার স্থান ১৮ লক্ষ বর্গফুটে প্রসারিত করার কাজ শুরু হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত এই মেলার আয়োজন মূল প্রায় ১২ লক্ষ বর্গফুট এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ৬ লক্ষ বর্গফুট অতিরিক্ত জায়গা মেলার মূল পরিসরে যুক্ত হচ্ছে।
বর্ধিত এই স্থানে ভিড় সামলানোর জন্য বিশেষ জোন তৈরি, বিশ্রামাগার স্থাপন এবং নতুন চলাচলের পথ চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
"পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাই রাজ্য সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। বর্ধিত আয়তনের ফলে পুণ্যার্থীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারবেন এবং অপ্রীতকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।"
প্রেক্ষাপট ও প্রসারণের কারণ
প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে লাখ লাখ পুণ্যার্থী ও সাধু-সন্তরা গঙ্গাসাগরে উপস্থিত হন। বিগত কয়েক বছরে পুণ্যার্থীর সংখ্যা অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বের সীমিত পরিসরে বিশাল জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছিল। সেই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই মেলাপ্রাঙ্গণের পরিধি বাড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুণ্যার্থী ও ভক্তদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব
মেলাক্ষেত্রের আয়তন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দর্শনার্থী ও স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একাধিক সুবিধা তৈরি হবে:
- শৃঙ্খলিত ভিড় ব্যবস্থাপনা: মেলার পরিসর বাড়ায় মূল মন্দির ও স্নানের ঘাটের ওপর এককালীন চাপ অনেকটাই কমবে।
- জরুরি ও নাগরিক পরিষেবা: অতিরিক্ত জায়গায় পর্যাপ্ত শৌচাগার, পানীয় জলের বুথ, অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র এবং বিশ্রামাগার তৈরি করা সম্ভব হবে।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরালোকরণ: সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো, নজরদারি টাওয়ার স্থাপন এবং পুলিশি সহায়তাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও কাজের অগ্রগতি
ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের তদারকিতে নির্ধারিত অতিরিক্ত জমি সমতল করা ও পরিকাঠামো গড়ার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। মেলা শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমার আগেই সমস্ত অস্থায়ী নির্মাণ ও বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক ও উর্ধ্বতন আধিকারিকেরা নিয়মিত মেলাপ্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করছেন।







