আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে জর্জিয়া রাজ্য থেকে জয় হাসিল করে চমক তৈরি করেছেন দেশটির ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সেনেটর জন অসফ। ২০২১ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে সামান্য ব্যবধানে জিতে প্রথম বার সেনেটে পৌঁছেছিলেন তিনি। সে সময়ে সমালোচকরা তাঁকে ‘অ্যাক্সিডেন্টাল সেনেটর’ বলে কটাক্ষ করলেও ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে আসন ধরে রেখেছেন অসফ। এই সাফল্যের পর থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ডেমোক্র্যাট শিবিরের অনুগামীরা তাঁকে ‘ভবিষ্যতের বারাক ওবামা’ ও আমেরিকার পরবর্তী সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছেন।
২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়ার ভোটাররা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। তবে দু’বছরের মাথায় সেই পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। যদিও একাধিক বার অসফ জানিয়েছেন যে প্রেসিডেন্ট হওয়ার বড় কোনও আকাঙ্ক্ষা তাঁর নেই, তা সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাটদের নতুন প্রজন্মের নেতাদের তালিকায় তিনি বেশ সামনের সারিতেই রয়েছেন।
অসফের ব্যাকগ্রাউন্ড ও রাজনৈতিক জীবন
১৯৮৭ সালে আটলান্টায় জন্ম গ্রহণ করেন জন অসফ। তাঁর মা ছিলেন অস্ট্রেলীয় অভিবাসী এবং বাবা বেলারুশের ইহুদি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। অসফের পরিবারের অনেকেই নাৎসিদের নির্যাতনের শিকার হয়েছিল এবং প্রাণ বাঁচাতে তাঁর দাদু-ঠাকুমাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। ইহুদি ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও অসফ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচক। পাশাপাশি আমেরিকাকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও সমালোচনা করে থাকেন।
কৈশোর থেকেই রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন অসফ। ১৭ বছর বয়সে জন লুইসের আত্মজীবনী পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি লুইসকে চিঠি লিখে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। লুইস তাঁকে ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেন। কাকতালীয়ভাবে, জন লুইস পরবর্তীতে বারাক ওবামার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
বুধবার রাতে জয় লাভের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি নিশানা করেন অসফ। তিনি বলেন:
"উনি একজন ব্যর্থ, ঠুঁটো প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার মানুষ ওঁর খামখেয়ালিপনা, দুর্নীতি এবং অযোগ্যতাকে প্রত্যাখ্য়ান করেছেন। প্রেসিডেন্টের অপকর্মকে সীমাবদ্ধ রাখা নয় শুধু, বরং গভীরে লুকিয়ে থাকা ক্ষতগুলিকে সারিয়ে তোলার চেষ্টাই চালিয়েছি আমরা গত দু’বছর ধরে।"







