পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রশাসনিক কোয়ার্টার নবান্ন সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে। সিটিজেনশিপ অमेंডমেন্ট এক্ট (সিএএএ) ২০১৯-র বিধানমতো নাগরিকত্ব প্রদানের কাজে গতি আনতে রাজ্যের কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সুধার বিভাগ উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া — এই দুটি জেলায় মোট ১২ জন ভারতীয় প্রশাসনিক সেবা (আইএএস) প্রবেশনার অফিসারকে বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করেছে।
মূল ঘটনা ও তথ্য
রাজ্য সরকারের আধিকারিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই ১২ জন যুব প্রশাসনিক কর্মীরা সংশ্লিষ্ট জেলা দফতরের অধীনে সিএএএ আবেদন প্রক্রিয়া, নথি যাচাই, ক্ষেত্রতলা তদন্ত ও নাগরিকত্ব প্রদানের সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক কার্যক্রমের ত্বরান্বিত নিশ্চিতকরণে সাহায্য করবেন। কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সুধার বিভাগের প্রधान সচিবের দফতর থেকে বের হওয়া এই আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রবেশনাররা জেলা শাসকের (ডিএম) সরাসরি পরিবেক্ষণে কাজ করবেন। নির্দেশিকাটি তৎক্ষণই কার্যকর হওয়ার কথা।
প্রেক্ষাপট ও কারণ
সিএএএ ২০১৯ পাস হওয়ার চার বছর পর গত মার্চ মাসে কেন্দ্র সরকার আইনের বিধিমালা প্রকাশ করল। এরপর থেকে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত জেলাগুলোতে — বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ায় — নাগরিকত্ব আবেদনের সংখ্যা ব্যাপক বেড়েছে। এই দুটি জেলা বাংলাদেশের সীমান্তের নিকটস্থ হওয়ায় এখানে হিন্দু শরণার্থী ও প্রবাদিত ব্যক্তিদের আবেদন প্রবাহ সবচেয়ে বেশি। জেলা প্রশাসন আগে থেকেই সাধারণ কর্মশক্তির অভাবে এই অতিরিক্ত কাজের ভার বহন করতে পারছিল না। একই সময় রাজনৈতিক স্তরেও সিএএএ প্রক্রিয়া দ্রুত করার চাপ ছিল। এই পরিস্থিতিতে নবান্ন প্রবেশনার আইএএস অফিসারদের আহ্বান করে বিশেষ দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রভাব ও জনজীবন
- উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার হাজার হাজার আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব প্রাপ্তির প্রক্রিয়া দ্রুত হবে
- জেলা প্রশাসনের ওপর থেকে অতিরিক্ত কাজের চাপ কমবে, সাধারণ প্রশাসনিক কার্যক্রম বাধাহীন থাকবে
- যুব আইএএস অফিসারদের ফিল্ড-লেভেল প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে
- সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আইনগত নাগরিকত্ব পাওয়ার আশা বড়বে
পরবর্তী পদক্ষেপ
প্রবেশনার অফিসাররা আজ থেকে নিজ নিজ জেলায় যোগ দিয়ে কাজ শুরু করবেন। জেলা শাসকরা সপ্তাহিক ভিত্তিতে তাদের কর্মক্ষমতা ও প্রক্রিয়ার গতি পর্যবেক্ষণ করবেন। কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সুধার বিভাগ এক মাস পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আবশ্যক হলে আরও কর্মশক্তি বা সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আবেদনকারীদের সুবিধার্থে জেলা দফতরগুলোতে হেল্পডেস্ক ও অনলাইন ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করার প্রস্তাও বিবেচনা করা হচ্ছে।







