২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটগণনার ট্রেন্ডে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট এবং নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস— উভয় ক্ষেত্রেই রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনগুলোতে চাপ বাড়িয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির। ট্রাম্পের জন্য এই নির্বাচন ছিল একটি বড় পরীক্ষা।
৪৩৫ আসন বিশিষ্ট মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার হলো ২১৮। প্রাথমিক গণনার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইং ডিস্ট্রিক্ট’ বা ব্যাটলগ্রাউন্ডে রিপাবলিকান পদে থাকা প্রার্থীদের হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। এই ফলাফল ট্রাম্প সরকারের নীতিগুলোর প্রতি সাধারণ আমেরিকানদের ক্ষোভের বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গভর্নর নির্বাচনের ফলেও দেখা গেছে ডেমোক্র্যাটদের বড় সাফল্য। টেক্সাস ও কানসাসের মতো দীর্ঘদিনের রক্ষণশীল রিপাবলিকান ঘাঁটিতে দীর্ঘদিন পর জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এছাড়া জর্জিয়া (জন ওসফ), নিউ মেক্সিকো ও ওহাইওসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে তারা নিজেদের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন আসনও ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ কয়েকজন ভারতীয়-আমেরিকান এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন এবং তাদের পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। সুহাস সুব্রহ্মণ্যম মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে নিজের আসন ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে পিয়া ডান্ডিয়া ফ্লোরিডার ২২তম কংগ্রেসনাল জেলা থেকে বিজয়ী হয়ে ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি নতুন আসন নিশ্চিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও এজেন্ডা বাস্তবায়নে বড় বাধা তৈরি করতে পারে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে হোয়াইট হাউসের নীতি নির্ধারণ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। উল্লেখ্য, প্রতি চার বছর অন্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়। এবার সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি সাধারণ আসনের সবকটিতেই ভোট নেওয়া হয়েছে।







