রাস্তা আটকে রাতারাতি একটি নতুন পুজোর ব্যবস্থা করে তাঁর বাড়ির কালীপুজোয় মানুষের পৌঁছনোর পথ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট রোডে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত পুলিশের গাড়ি কি কাউকে অপহরণ করতে এসেছে?
৭ নভেম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনের রাতে তাঁর কালীঘাটের বাসভবনের সামনে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘাতের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ভোরে হাতাহাতি ও ইটবৃষ্টি শুরু হলে এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের আকার নেয়। ঘটনায় সাত জন আহত হন। সকাল পর্যন্ত অবস্থানে বসে থাকার পর অভিষেকের সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি অভিযোগ তোলেন, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাতভর অভিষেকের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিজেপি। পাড়ার ক্লাবের পুজো আটকে রাস্তা দখল করে এই নতুন পুজো শুরু করা হয়েছে যাতে তাঁর বাড়িতে কেউ আসতে না পারে।
পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন:
"ক'টা বুলডোজার আছে আপনাদের? আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি। আমার বুকের উপর দিয়ে বুলডোজার চালান। গুন্ডাগিরি চলছে এখানে। তোমরা অত্যাচার করবে আর আমরা বুক বুঁজে তা সহ্য করব? লুম্পেনরা এসেছে রাত ৩টের সময়ে। যখন মানুষ ঘুমোয় তখন এসে হামলা করছে? কে অধিকার দিল? গণতন্ত্র নেই?"
কালীঘাট থানার ওসির বিরুদ্ধে অভিষেকের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ তুলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, বাড়াবাড়ি হলে প্রয়োজনে তিনি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাবেন।
শনিবার মধ্যরাতে দলীয় সমর্থকরা অভিষেকের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন। সেই সময় সেখান দিয়ে যাওয়া কিছু বিজেপি সমর্থক 'চোর চোর' স্লোগান দিলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, বাঁশ-লাঠি নিয়ে আক্রমণ এবং ইটবৃষ্টি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে ব্যারিকেড দিতে হয়। ঘটনা প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বড় বড় পাথর ছুড়ে তাঁকে প্রাণে মারার চক্রান্ত করা হয়েছিল, তবে দলীয় কর্মীরা রুখে দাঁড়িয়ে তাঁকে রক্ষা করেছেন।







